কেমন হবে হাশরের ময়দান?

0 views

হাশর বা কিয়ামতের দিন—এটি এমন একটি দিন, যার ভয়াবহতা ও মহিমা মানব কল্পনারও বাইরে। ইসলাম ধর্মে এই দিনকে বলা হয় হিসাব-নিকাশের দিন, যেদিন প্রতিটি মানুষ তার জীবনের প্রতিটি কাজের জবাবদিহি করবে আল্লাহর কাছে।
হাশরের দিন কী?
হাশর মানে হলো—সব মানুষকে পুনরায় জীবিত করে একত্র করা।
পবিত্র কোরআন-এ আল্লাহ বলেন:
“সেদিন আমি পাহাড়গুলোকে উড়িয়ে দেব, আর তুমি পৃথিবীকে সমতল দেখতে পাবে; এবং আমি মানুষকে একত্র করব, কাউকেই বাদ দেব না।”
— (সূরা কাহফ: ৪৭)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, হাশরের দিন পৃথিবী সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যাবে—সমতল, ফাঁকা, কোনো গাছপালা বা পাহাড় থাকবে না।
হাশরের দিনের ভয়াবহতা
মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন:
“কিয়ামতের দিন সূর্য মানুষের মাথার খুব কাছাকাছি চলে আসবে, ফলে মানুষ তাদের আমল অনুযায়ী ঘামে ডুবে যাবে।”
— (সহিহ মুসলিম)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়,
কেউ হাঁটু পর্যন্ত ঘামে ডুববে
কেউ কোমর পর্যন্ত
কেউ সম্পূর্ণ ডুবে যাবে
এটি মানুষের পাপ ও আমলের উপর নির্ভর করবে।
মানুষের অবস্থা কেমন হবে?
হাদিসে এসেছে—
“মানুষকে হাশরের ময়দানে খালি পায়ে, নগ্ন অবস্থায় এবং খতনাবিহীন অবস্থায় উঠানো হবে।”
— (সহিহ বুখারি)
এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কেউ কারো দিকে তাকানোরও সময় পাবে না। সবাই নিজের হিসাব নিয়ে ব্যস্ত থাকবে।
আমলের হিসাব:
হাশরের ময়দানে প্রতিটি মানুষের আমলনামা তুলে দেওয়া হবে।
কোরআন-এ বলা হয়েছে:
“যার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে, সে সহজ হিসাব পাবে।”
— (সূরা ইনশিকাক: ৭-৮)
ডান হাতে পেলে → সফলতা
বাম হাতে পেলে → ধ্বংস ও শাস্তি
পুলসিরাত ও পরবর্তী ধাপ
হিসাব শেষে মানুষকে পার হতে হবে পুলসিরাত, যা জাহান্নামের উপর স্থাপিত এক সেতু।
হাদিসে বর্ণিত—
এটি চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম
তলোয়ারের চেয়েও ধারালো
মানুষ তার আমল অনুযায়ী দ্রুত বা ধীরে পার হবে।
মুক্তি কার জন্য?
এই ভয়ংকর দিনে কিছু মানুষ আল্লাহর বিশেষ রহমতে নিরাপদ থাকবে।
মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন:
“সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর আরশের ছায়ায় থাকবে, যেদিন কোনো ছায়া থাকবে না।”
তাদের মধ্যে রয়েছে—
ন্যায়পরায়ণ শাসক
আল্লাহভীরু যুবক
যারা গোপনে দান করে
যারা একাকী আল্লাহকে স্মরণ করে কাঁদে
Www.BLOGINFOBD.com

BloginfoBD

আমি মোঃ সজিব মিয়া । কাজ করছি Bloginfobd, FST Bazar, FST IT , FST Telecom ওয়েবসাইটে ।


Leave a Comment